খলিফা উমর ও বালিকার গল্প

খলিফা উমর ও বালিকার গল্প

খলিফা উমর ও বালিকার গল্প: খলিফা উমর ফারুক (রা.) প্রজাদের নিরাপত্তা, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি জানার ও উপলব্ধি করার জন্য গভীর রাত্রে রাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গায় তাঁর সঙ্গী আসলামসহ ঘুড়ে বেড়াতেন। এক রাত্রে খলীফা তার সঙ্গী আসলাম দুই জন দুই দিকে ভাগ হয়ে শহরের বিভিন্ন অলি-গলি ঘুরে বেড়াতে লাগলেন। খলীফা বিভিন্ন গলি ঘুরতে ঘুরতে এক কুটীরের এক বৃদ্ধা মহিলার হঠাৎ আওয়াজ শুনতে পেয়ে থেমে গেলেন। সেই কুটীরে এক বৃদ্ধা মহিলা তার মেয়েকে নিয়ে বসবাস করতেন। বৃদ্ধ মহিলা বলছে, এভাবে কষ্ট করে আর কত দিন চলবে! 

ছাগলের দুধও আগের মত হচ্ছে না দুধ শুকিয়ে যাচ্ছে। কাল থেকে মনে হয় দুধে কিছু করে পানি না মিশালে আর সংসার চলবে না। মেয়েটি এত রাতে ঘুমায়নি। সে তার মার কথা শুনে বললে, মা দুধে পানি মিশিয়ে দিলেরই কি সংসার চলবে ? সংসার চালানাের মালিক যে সেই মহান আল্লহ তায়াল মা! তারপর খলীফা এক কড়া আইন জারি করেছেন, দুধে যে পানি মিশাবে, তার হাত কেটে দেওয়া হবে, তা কি শােননি, মা? মা বললেন, আমরা কখন কি করব তা কি খলীফা দেখতে পাচ্ছে!

মেয়ে বললাে-তুমি তাে বলেছ মা, আমরা যা কিছু করি, যা কিছু ভাবি আল্লাহ্ তা জানেন; খলীফা না দেখুন যিনি সর্বত্র সকল সময় আছেন সেই আল্লাহ্ তাে দেখবেন, তাঁর সেই চোখকে তুমি কিভাবে ফাঁকি দেবে মা ? তার শাস্তি থেকে তুমি কিভাবে বাঁচবে। মেয়ের কথা শুনে মা আর কিছুই বলল না। ছােট্ট মেয়ের আল্লাহ্ সম্বন্ধে এত সরল জ্ঞান ও তাঁর প্রতি এরূপ ভয় ও বিশ্বাস দেখে খলীফা মুগ্ধ হয়ে গেলেন। তার মার কথায় অসন্তুষ্ট না হয়ে বরং তাদের দুঃখ-কষ্টের কথা ভেবে খুব কষ্ট পেলেন। নানা কথা ভেবে সেখান থেকে খলীফা আস্তে আস্তে চলে এলেন।  পথে তার সঙ্গী আসলামকে বললেন, কাল সকালে এদের দরবারে হাযির করবে। 

আদেশ মত আসলাম পরদিন সকালে মা ও বালিকাকে গিয়ে বলল, ফলীফা তোমাদের দরবারে ডেকেছেন। শুনে মা ও মেয়ে ভয় পেয়ে গেলেন। তারা নানা কল্পনা নানা কথা ভাবতে লাগলেন শেষে মেয়েটি বলল মা ফলীফা যখন আমাদের ডেকেছেন তখন আমাদের তো যেতেই হবে। আল্লাহর উপর ভরসা করে যাই। বিধাতা আমাদের কপালে যা লিখেছেন তা তো হবেই মা। এই বলে তারা আসলামের সঙ্গে রওয়ানা দিল। তাদের এত রাতের কথা যে খলীফা শুনেছেন তা তারা মােটেই ভাবতে পারেনি, তাই তারা বুঝতে পারলাে না কেন খলীফা তাদেরকে দরবারে কেন ডেকেছেন। 

খলিফা উমর ও বালিকার গল্প বালিকার বিয়ে

খলীফা বৃদ্ধা মহিলার কাছে তাদের সংসার সম্পর্কে এবং সুখ-দুঃখের কথা খুব মনােযােগের সাথে শােনলেন । তিনি জানতে পারেন মেয়েটি অবিবাহিতা। তিনি বিধবা বৃদ্ধাকে বলেলন, আপনি সংসার নিয়ে এত দুশ্চিন্ত কেন করছেন। বৃদ্ধা মহিলা বলল, আমার এই মেয়ের অভিভবক বলতে আমি ছাড়া আর কেউ নেই। আমারও তো বয়স অনেক হয়েগেছে মেয়েটাকে সৎ পাত্রে সপে দিতে পারলে নিশ্চিন্ত হতাম।

তখন হযরত উমর (রা) দরবারের লােকদেরকে বললেন, এই পিতৃহীনা বালিকা আমার রাজ্যের অলঙ্কারস্বরূপ। তােমাদের মধ্যে কেউ যদি একে বিবাহ করে এর বিধবা মাকে কন্যাদায় থেকে মুক্তি দেয়, তাহলে আমি খুব খুশি হবাে। এ বালিকা যার ঘরে যাবে সে নিশ্চয়ই খুব ভাগ্যবান। এই অচেনা বালিকাকে কেউ বিয়ে করতে রাজি হলেন না । সবাই চুপ করে মাথা  নীচু করে রইলাে। খলীফা হযরত উমর (রা) আবার বললেন, যে বালিকার গুণমুগ্ধ হয়ে স্বয়ং আমীরুল মু’মিনীন আজ তােমাদের কাছে সুপারিশ করছেন, তাকে গ্রহণ করতে তােমরা কি কেউ সাহস পাচ্ছ না?

এই কথা শুনার পর এক যুবক অমনি দাঁড়িয়ে উঠে বললেন, আমি প্রস্তুত আছি। খলীফা জিজ্ঞেস করলেন কেন এই নিঃস্ব বালিকাকে তুমি বিবাহ করতে স্বীকার করলে কিসের আশায়? যুবক উত্তরে বললেন, সাংসারিক অবস্থার উপর মানুষের মহত্ত্ব কখনও নির্ভর করে না। যে সৎ সেই আল্লাহ্র কাছে উচ্চ ও প্রিয়। ইসলামের এই মহান শিক্ষাই আমাকে এই বিবাহ করতে অনুপ্রাণিত করেছে।

এই যুবক ছিলেন আমীরুল মু’মিনীন খলীফা হযরত উমর ফারুক (রা) পুত্র। তাঁর এই জবাব শুনে পিতার মন গর্বে ভরে গেল। দরবারের আর সকলে নিজেদের দুর্বলতার জন্য লজ্জায় পেলে। খলীফা নিজ পুত্রের সাথে বলিকার দিয়ে দিয়ে দিলেন।

খলিফা উমর ও বালিকার গল্প

আরও জানুন: খলিফা উমরের একটি বীরত্বের গল্প

খলিফা উমর ও বালিকার গল্প

খলিফা উমর ও বালিকার গল্প

খলিফা উমর ও বালিকার গল্প

খলিফা উমর ও বালিকার গল্প

খলিফা উমর ও বালিকার গল্প

Leave a Comment

Scroll to Top