উমরের ১টি বীরত্বের গল্প

উমরের ১টি বীরত্বের গল্প

উমরের ১টি বীরত্বের গল্প : খলিফা হযরত উমর (রাঃ) ছিলেন ইসলামের ২য় খলিফা। তিনি রাষ্ট্রের দ্বায়িত্ব ভার গ্রহণ করার পর প্রজাদের সুযোগ-সুবিধা, সুখ-শান্তি এবং প্রজারা কিসে ভালো থাকবে সারাক্ষন সেই চিন্তায় ব্যস্ত থাকতেন। প্রজারাও সুখে শান্তিতে থাকতে লাগলেন। কিন্তু আল্লাহ রাব্বুল আল-আমীনের ইচ্ছায় একবার সেই রাজ্যে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দিল। মানুষ দিনের পর দিন না খেয়ে অসুস্থ হয়ে মরতে লাগল। রাষ্ট্রে অপরাধ বেড়ে গেল। চুরি, ডাকাতি ইত্যাদি বেড়ে গেল। খলিফা উমর (রা.) অনেক অর্থ ব্যয় করে এবং অনেক ভাবে চেষ্টা করেও কোন উপায় খুজে পেল না।

মদিনার পাশে জারার নামে একটি ছোট গ্রাম ছিল, সেখানে অধিবাসীরা খেজুরের বাগান চাষ করে খেজুর বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করত। সেই গ্রামে বাস করত এক হতদরিদ্র বিধবা মহিলা। বিধবার ছিল দুইটি নাবালক ছেলে। বিধবা তার দুই সন্তান নিয়ে খুব কষ্টে অনাহারে, অর্ধাহারে জীবন কাটাতেন। কিন্তু দুর্ভিক্ষ আসার পর তাদের খাবার শেষ হয়ে গেছে। বাড়ীতে যে ছাগল, ভেড়া ছিল তাও চোরে নিয়ে গেছে। আজ তিন দিন হয়ে গেল তাদের বাসায় চুলো জ্বলেনা ক্ষুধার তাড়নায় ছোট্র ছেলেটি বাড়ির বাহিরে খেজুর বাগানের দিগকে গেল দুই একটি শুকনো খেজুরের আশায়। কিন্তু খেজুর বাগনে যাওয়ার আগেই তিন জন বেদুঈন ডাকাত তাকে ধরে ফেলে। তাদের আস্তানায় নিয়ে যায়।

ছোট্র বালকটি কান্না জড়িত কন্ঠে বলল, আমি তো তোমাদের কোন ক্ষতি করিনি তাহলে আমাকে কেন ধরে এনেছো। আমকে ছেড়ে দাও আমি আমার মায়ের কাছে যাব। এই কথা শুনে ডাকাতদের দয়া হলো না, ছোট বালক আকুতি মিনতি করলে তারা বিরক্ত হয়ে বালকটিকে মারধর করল। তারপর একজন বেদুঈন তলোয়ার নিয়ে বালকটিকে হত্যা করার জন্য এগিয়ে এলে ছোট বালকটি ভয় পেয়ে পালাতে চেষ্টা করে তাই দেখে আর একজন ডাকাত বালকটিকে স্বজরে মাথায় অঘাত করলে বালকটি মাটিতে পরে যায়। তারপর সেই পাষান্ড হত্যার উদ্দেশ্যে যেইনা তলোয়ার উঁচু করেছে ঠিক তখনই সেই ডাকাতের বাম হাতে হঠাৎ করে একটি তীর এসে বিধল।

১টি বীরত্বের গল্প

ডাকাত দল ভয়ে আত্নহারা হয়ে গেল। তারা সবদিকে তাকিয়ে কিছুই দেখতে পেল না ভয়ে দিশেহারা হয়ে গেল। হঠাৎ সামনের দিকে তাকিয়ে দেখে ধনুক হাতে আর কোমরে গোজা আছে তলোয়ার পিঠে তীরের মোঠা বীর বেশে এক পুরুষ। সেই বীরকে একা দেখে ডাকাতেরা হাঁসতে লাগল। এক ডাকাত বল্ল কেন এই বালকের জন্য নিজের জীবন দিতে এসেছে। এই কথা শুনে বীর বলল তোমাদের দয়া মায়া বলতে কি কিছুই নেই। নাবালক একটা বাচ্চা ছেলেকে মারতে যাচ্ছ কেন। ডাকাত বলল মারতে কি স্বাধে যাচ্ছি , দেখনা চারিদিকে কেমন দুর্ভিক্ষ খাবার নেই আজ এই ছেলেটিকে খাব। এ কথা শুনে বীর বলল, ঠিক আছে তোমারা মদিনায় এসো তোমাদের খাবার ব্যবস্থা করা হবে।

ডাকাত দল বলল, মদিনায় গিয়ে খলিফা উমরের হাতে আমাদের ধরিয়ে দেওয়ার ফন্দিটা তো ভালোই এটেছো। সরে যাও নইলে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হও। বীর বলল ঠিক আছে তবে এসো। বীর তলোয়ার হাতে এগিয়ে গেল এবং বেশ কিছুক্ষন যুদ্ধ চলল। সেই ছোট্ট বালকটি শুধু তাকিয়ে দেখছিল বীরের তলোয়ারের কাছে কেউ টিকতে পারলনা। ডাকাত দল ভয় পেয়ে দৌড়ে পালাল।

তারপর সেই বীর বাচ্চাটির দিকে তাকিয়ে বল্ল তোমার কোন ভয় নেই। আমার কোলে এস আমি তোমাকে বাড়ি পৌছে দিব। তারপর সেই ছেলেটির কাছে তাদের জীবন কাহিনী শুনল, ছেলেটির বাবা ছিল মুহাম্মদ (সা.) এর একজন সাহাবা তিনি মুহাম্মদ (সা.) এর পক্ষে যুদ্ধে গিয়ে শহীদ হয়েছেন। তারপর হতে তাদের সংসারের ভোরন পোষন তার মা খুব কষ্টে পরিচালনা করেন। গল্প শুনতে শুনতে এক সময় তাদের বাড়ি গিয়ে পৌছালেন। বাড়িতে পৌছা মাত্রই ছেলেটির মা ছেলেটিতে জরিয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন। তারপর ছেলেটি সব কথা তার মাকে বলল। সব কথা শুনার পর বৃদ্ধা বিধবা কিছু বলার আগেই সেই বীর বলল আমি সব জানি আপনার সন্তানের মুখে সব শুনেছি। তিনি বলল ছেলেকে সাবধানে রাখবেন আমি রাত্রে আসব কেমন? এবার আসি বলে বীর চলে গেল।

১টি বীরত্বের গল্প 1 1

সন্ধ্যা নেমে এল রাত হয়ে গেল ছোট্ট ছেলে দুটি ক্ষধায় ছটফট করতে লাগল তাদের সান্তনা দেওয়ার জন্য তার মা পাতিলে কয়েকটি শুকনা হাড় ও পানি দিয়ে জ্বাল দিতে লাগল এভাবে করতে করতে ছেলে দুটোর ঘুম ঘুম আবস্থা ঠিক সেই সময় হঠাৎ দরজায় ঠক ঠক আওয়াজ শুনতে পেয়ে সেই বিধবা মহিলা দরজা খুলতেই দেখে সেই বীর তার সঙ্গে এক সঙ্গী নিয়ে এসেছেে এবং ছাগল, ভেড়া, খেজুর, আটা ইত্যাদি খাবার সাথে নিয়ে এসেছে। বিধবা মহিলা বীরকে ধন্যবাদ জানালো। বীর বলল আমাকে ধন্যবাদ জানানোর দরকার নেই আগে খাবার তৈরি করে বাচ্চাদের খাবার দাও।

বিধ্বা মহিলা রুটি তৈরি করে বাচ্চাদের দিল। এবার বীর বলল তোমরা কালকে মদিনায় শহরে আসবে মদিনার শহরে প্রবেশ পথে আমার এই সঙ্গী আপনাদের খলীফার দরবারে নিয়ে যাবে। দেখি সেখানে তোমাদের জন্য যদি কোন ব্যবস্থা করতে পারি। বিধবা মহিলা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল আল্লাহ যদি উমরকে খলিফা না করে আপনাকে খলিফা হিসেবে নিযুক্ত করতেন তাহলে কতই না ভালো হতো।

উমরের ১টি বীরত্বের গল্প খলিফার দরবারে বিধবা মহিলার উপস্থিতি

পরদিন বিধবা মহিলা দুই সন্তানকে নিয়ে যথা সময়ে মদিনায় উপস্থিত হলো প্রবেশ পথে সেই সঙ্গীর দেখা পেল। সেই সঙ্গী তাদের নিয়ে খলিফার দরবারের কাছে নিয়ে গেলে তার পর সঙ্গী বলল এবার আপনারা ভিতরে যান। বিধবা ভিতরে প্রবেশ করতেই অবাক হয়ে সে লজ্জায় ভেঙ্গে পড়ল একি সেই বীর লোকটি খলিফার আসনে বসে আছেন। তাহলে কি সেই বীর ছিলেন খলিফা উমর ফারুক (রা.) যিনি স্বয়ং আমাদের বাড়িতে এসেছিলেন। বিধবা লজ্জায় আর কোন কথা বলতে পারনা।

খলিফা উমর ফারুক (রা.) তাদের দেখে বললেন আসুন বসুন তারপর তাদের ভালোমন্দু বিনিময় করার পর তাদের বাইতুলমাল হতে একটি মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করে দিলেন। তখন সেই বিধবা খলিফা উমর ফারুক (রা.) গুনগান করলেন সকলের সামনে।

আরও জানুন : মাদ্রাসার শিক্ষদের প্রশিক্ষণ 2022

আরও জানুন: খলিফা উমর ও বালিকার গল্প

উমরের ১টি বীরত্বের গল্প

উমরের ১টি বীরত্বের গল্প

উমরের ১টি বীরত্বের গল্প

Leave a Comment

Scroll to Top